আইসিটি টাওয়ারে ‘জয়যাত্রা’র শুভ জন্ম দিন উদযাপন

২৭ জুলাই, ২০২৩ ১৭:৪৫  

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের ‘জয়যাত্রা’ উদযাপন করলো আইসিটি বিভাগ। প্রথমেই অডিও ভিজ্যুয়ালে তুলে ধরা হয় জয় এর জন্ম থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের বিনির্মাণের স্বপ্ন-কথা। স্মৃতি চারণ আর শুভেচ্ছা বক্তব্যের শেষে সজীব ওয়াজেদ জয়-কে নিয়ে রচিত রচিত নতুন একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। সব শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিয়ে কেক কাটেন সভাপতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বিশ্রুত স্মৃতি রোমন্থন করে প্রধান অতিথি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে মাঝের সারিতে বসা শেখ হাসিনা ছিলেন খুবই সাদাসিধে। তিনি এতো বড় মাপের একজন মেয়ে হলেও লো প্রোফাইলের জীবন যাপন করতেন। জয়ও তার মায়ের কাছ থেকে সেই গুণ পেয়ে সহজ-সরল জীবন যাপন করেন। জয়ের কল্যাণেই বাংলাদেশে কম্পিউটার ভিত্তি পেয়েছে। সব চ্যালেঞ্জেই তার কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি। তার দক্ষতার জন্যই প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব মিস করলেও তৃতীয় শিল্প বিপ্লব জয় করতে পেরেছি।

স্মার্ট সংযোগ ছাড়া স্মার্ট নাগরিক, অর্থনীতি ও সরকার হবে না বলে সজীব ওয়াজেদ জয় যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সূত্র ধরেন তিনি অচিরেই পেছন থেকে নয় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন বলে মন্তব্য করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।  

সভাপতির বক্তব্যে পলক বলেন, বাংলাদেশ এবং জয় ভাইয়ের জন্ম একই সূত্রে গাঁথা। তিনি শুধু নির্বাচন নয়, প্রজন্মের জন্য কাজ করছেন। পরবর্তী আরো দুইটি প্রজন্মের জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প দিয়েছেন। তার নির্দেশনাতেই জুরাসিক পার্ক আর শিশু পার্কের পর হাইটেক পার্ক পেয়েছি। দেশে একটি উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ী ও টেকসই করেছেন। ইডিসি প্রকল্পের কাজ এক বিলিয়ন ডলারের কাজ অর্ধ বিলিয়ন ডলারে সম্পন্ন করেছেন।

বাংলাদেশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অগ্রগতি থেকে একটুও পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অদম্যগতিতে আমরা চলছি তথ্যপ্রযুক্তির এক মহাসড়ক ধরে। আমাদের সাফল্য গাঁথা রয়েছে এই খাতে, যা সত্যিই গৌরব ও আনন্দের। ডিজিটাল দেশ হিসেবে সারাবিশ্বের বুকে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য সবার জন্য কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রোমোশন-এ চারটি স্তম্ভ নির্ধারণ করে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়ন হয়েছে। সততা, সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে মাত্র ১৩ বছরে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে ৪০ শতাংশ বিদ্যুতের দেশ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। যেখানে ৫৬ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল, আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুগোপযোগী পরিকল্পনা ও পরামর্শে ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

এছাড়াও বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মাহফুজুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।  

গদ্য কবিতার ঢঙে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিটি সচিব সামসুল আরেফিন।

স্কুল, কলেজ এবং উনিশ দশকে যুক্তরষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেন  বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরিফ। অদৃশ্যমান ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি জটিল সমস্যা ভেঙ্গে জয় কীভাবে সমাধান দিয়েছেন তা তুলে ধরেন এটুআই পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী। দেশের নারগরিকদের দুই লাখ টাকা সাশ্রয়ের কথা তুলে ধরে তাকে তুলনা করেন ইলন মাস্কের সঙ্গে। তবে এক্ষত্রে তাকে মাস্ক থেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখেন। স্বপ্ন জয়ের কারিগর উল্লেখ করে বাক্কো সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি আমাদের গর্বের। সাহসের উৎস।

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএসএম জাফরুল্লাহ, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি সুব্রত সরকার, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।